নারী সাংবাদিকদের সামনে চ্যালেঞ্জ
জুলি ম্যাকক্রিডি লন্ডনে থাকেন। যুক্তরাজ্যের মিডিয়া কনসালট্যান্ট। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে গত সপ্তাহে আয়োজিত নারী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে তিনি যোগ দেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ঢাকা তাঁর কাছে কেমন লাগছে। তিনি বললেন, খুব ভালো। এখানে একঝাঁক সুন্দর তরুণ মেয়ে শত ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন, এটা তিনি ভাবতেও পারেননি। তাঁর এই না ভাবতে পারার পেছনে একটা কারণ আছে। রিসোর্স পারসন হিসেবে দাওয়াত পেয়ে তিনি খুশি হয়েছিলেন, তবে ঢাকায় আসা কতটা সমীচীন হবে তা নিয়ে তাঁদের পরিবারে নাকি কিছু আলোচনা হয়েছিল। তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। কিন্তু এখানে আসার পর তিনি দেখলেন পরিস্থিতি সাধারণ অর্থে ভালো তো বটেই, উপরন্তু এমন মাত্রায় ভালো যে নারী সাংবাদিকরাও এখানে স্বচ্ছন্দে কাজ করছেন। সেজন্য তিনি বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের প্রশংসাই করলেন।
বাইরে থেকে এসে জুলি বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রশংসাই করেছেন সাধারণভাবে। তার মানে এই না যে দোষত্রুটি নেই, সমস্যা নেই। সেগুলো আছে নিশ্চয়ই। নারী সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কাজের মান আরো উন্নত করা ও সাহসী ভূমিকা রাখার বিষয়ে জুলি বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে নারী সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্র ও কাজের পরিবেশ যে সবসময় ও সব ক্ষেত্রে উন্নত তাও বলা যাবে না। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। সেজন্য কী করা দরকার, কার কী করণীয় এসব নিয়ে নারী সাংবাদিকদের চার দিনব্যাপী ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণ সেশনে আলোচনা হয়েছে।
দেশে সাংবাদিকের সংখ্যা যদি হয় ছয় হাজার, তাহলে তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা হবে খুব বেশি হলে দেড় শ। মাত্র আড়াই শতাংশ নারী সাংবাদিক। অথচ জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। পড়াশোনায়ও নারীরা এগিয়ে আসছেন। মেয়েরা মাঠে কাজ করছেন, কলকারখানায় শ্রমিকের কাজ করছেন, ইট ভাঙছেন। তাহলে সব পেশায়ই নারীর অংশগ্রহণ কম কেন? এর কারণ কী? আমার সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে জুলি এ প্রশ্নটি করলেন। এ প্রশ্নটি ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণের দাবি রাখে। অনেকের মতে নিরাপত্তার সমস্যাটি হয়তো এখানে একটা কারণ। সাংবাদিকের কাজ যেহেতু ঝুঁকিপূর্ণ ও যেহেতু গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়, আবার সংসারের যাবতীয় কাজও তাকেই করতে হয়, সেজন্যই বুঝি সাংবাদিকতায় নারীর সংখ্যা কম। জুলি কিন্তু এ ব্যাখ্যা মানতে চাননি। এটা খোঁড়া যুক্তি, তিনি বললেন। আসলে নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধু নারীর জন্য নয়, পুরুষ সাংবাদিকদের জন্যও বড় সমস্যা। অনেক সাংবাদিক শুধু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের 'অপরাধে' নির্যাতি হয়েছেন এবং তাদের সবাই পুরুষ। তাহলে কি নিরাপত্তার কারণে পুরুষ সাংবাদিকরা এ পেশায় কম আসছেন? না, মোটেও না। তাহলে নারীরা ঠিক এ কারণে কেন পিছিয়ে থাকবেন?
আজকাল ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অনেক তরুণ নারী সাংবাদিকতা পেশাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করে চলেছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে। তাদের সাহসিকতাপূর্ণ কাজ সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। প্রিন্ট মিডিয়াতে নারীর। এগিয়ে আসছেন। তারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যেতে আগ্রহী। কিন্তু অনেক সময় নিয়োগকর্তারা তাদের নিতে ইতস্তত করেন। সেখানে শুধু নিরাপত্তার বিষয়টিই নয়, পশ্চাৎপদ সমাজের নানা বিধি-বিধান ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে। কিন্তু অনেক নারী সবকিছু তুচ্ছ করে সাংবাদিকতায় আসতে চান। তা সত্ত্বেও দেখা যায় নারী সাংবাদিকের সংখ্যা কম। হয়তো ধীরে ধীরে এই সংখ্যাল্পতার সমস্যা কেটে যাবে। কিন্তু এ জন্য সাংবাদিকদের নিয়োগ দেন যারা, যারা প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারক তাদের সচেতন ভূমিকা রাখা একান্ত প্রয়োজন।
ধরা যাক সাংবাদিকতা পেশায় একজন নারী যোগ দিতে চান। তাকে চাকরি দেওয়ার সময় ধরে নিতে হবে যে অন্তত দুইবার তাকে মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে হবে, প্রতিবার চার মাস করে, কারণ এটাই এখন সরকারি আইন। গভীর রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরা বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments